
লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই হবিগঞ্জে সরব হয়ে উঠেছে স্থানীয় সরকার রাজনীতির মাঠ। জেলার ছয়টি পৌরসভা ও নয়টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেছেন। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই বিএনপির নিরস্কুশ জয়ের পর দলটির নেতাদের মধ্যে তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। তবে কৌশলী অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী প্রতিটি জায়গায় একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলা নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি পৌরসভার মধ্যে হবিগঞ্জ, মাধবপুর, চুনারুঘাট, শায়েস্তাগঞ্জ, ও নবীগঞ্জে, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। তবে সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন এবারও অনিশ্চিত। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পর হবিগঞ্জ পৌরসভায় দলটির অন্তত ১১জন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
তারা হলেন অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম, ইসলাম তরফদার তনু, অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, সৈয়দ মুশফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন সেলিম, শফিকুর রহমান সেতু, শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন, মোঃ রুবেল আহমেদ চৌধুরী, মফিজুর রহমান বাচ্চু ও আবুল হাশিম। অর্ধলক্ষাধিক ভোটারের হবিগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কারাবন্দী অবস্থায়ও এখন থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য জি কে গউছ। এবং তার পদত্যাগের পর দুই দফায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মেয়র হলেও এবার হারানো নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকা অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের আমলের কারচুপির নির্বাচনেও দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলাম, এবারও নির্বাচনে আছি।
নবীগঞ্জ পৌরসভায় আলোচনায় আছেন সাবেক মেয়র ছাবির আহমেদ চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর খালেদ, বিএনপি নেতা অলিউর রহমান অলি ও শ্রমিক নেতা আহবুবুল আলম সুমন। সাবেক মেয়র ছাবির আহমেদ বলেন, জনগণ, চাইলে আবারও প্রার্থী হব। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদের দৌড়ে আছেন সদ্য সাবেক মেয়র মোঃ ফরিদ আহমেদ অলি, প্রভাষক কামরুল হাসান রিপন, আব্দুল মজিদ ও সাবেক কাউন্সিলর সাইদুর রহমান। মাধবপুরে আলোচনায় আছেন সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক, বিএনপি নেতা হামিদুর রহমান হামদু, গোলাপ খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি, ব্যবসায়ী এমরান খান, পঙ্কজ সাহা ও হিরেন্দ লাল সাহা।
চুনারুঘাটে সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন সামছু এবং মীর সিরাজুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির এই প্রার্থীর মিছিলের বিপরীতে ভিন্ন পথে হাঁটছে জামায়াতে ইসলামী। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কাজী মহসিন আহমেদ বলেন, জেলায় প্রতিটি পৌরসভা ও উপজেলায় দলীয়ভাবে একক প্রার্থী দেওয়া হবে। আমাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি চলছে, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী পরিবেশ আরও স্পষ্ট হলে প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বড় দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved