মতিউর রহমান সুমন: জনতা আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের পূর্ব ইতিহাস বিস্তৃত।
আমরা যখন থেকে জানি, চিনি জনতা আদর্শ বিদ্যা নিকেতনকে তখন থেকে কিংবা তারও কিছু পূর্ব থেকে বর্তমান ০৯-০২-২০২৬ খ্রি. পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে যিনি প্রতিষ্ঠানটিকে অজস্র শ্রম, ঘাম, মেধা দিয়ে গড়েছেন তিনি সকলের শ্রদ্ধাভাজন জনাবা লুৎফুন্নেছা ম্যাডাম যিনি আগামী ১০.০২.২০২৬ খ্রিস্টাব্দে অবসরে যাচ্ছেন প্রিয় এ প্রতিষ্ঠান রেখে। যদিও এ বিদায় ক্ষণস্থায়ী তথাপি হাজারো স্মৃতিমাখা প্রিয় প্রাঙ্গন থেকে আনুষ্ঠানিক এ বিদায় হৃদয় ক্ষরণ সাথে অশ্রু ঝড়াবে চোখে।
'জনতা আদর্শ বিদ্যা নিকেতন' বিদ্যালয়টি গফরগাঁওয়ের দক্ষিণাঞ্চলে কান্দিপাড়ার কেজি স্কুল নামে সমধিক পরিচিত। মূলত কেজি স্কুল থেকেই যাত্রা শুরু করা আজকের নতুন বাজার জনতা আদর্শ বিদ্যা নিকেতন। আছে নামকরণেরও ইতিহাস। নামের সাথে নতুন বাজার কেন যুক্ত হলো? মূলত নীলপদ্ম থেকে নতুনরূপে স্কুলটি যেখানে প্রতিষ্ঠা লাভ করে তৎকালীন সময়ে সেখানে নতুন বাজার নামে গরুর হাট বসতো। সেই হাঁটেই 'একতা সমবায় বিপনি বিতান' নামে ব্যবসায়ীক সমিতির সভাপতি- জনাব মরহুম নজরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি বেপারি বাড়ীর জনাব আজিম উদ্দিন বিপনি বিতানের আওতায় ৮০ (আশি) হাত লম্বা ও ৪০ (চল্লিশ) হাত প্রস্থ একটি জায়গার ব্যবস্থা করে দেন যার দরুন নামের সাথে যুক্ত হয় নতুন বাজার আর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্কুলের অনারবোর্ডে, গেইটে মরহুম জনাব নজরুল ইসলামের নাম লক্ষ্য করা যায়। যদিও বিপনি বিতান সমিতির সেক্রেটারির ভূমিকাও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ জানা যায় উনার অনুরোধেই জায়গাটির ব্যবস্থা হয় তথাপি বেপারী বাড়ির আজিম উদ্দীনের নামটি আমাদের অনেকের অজানায় রয়ে গেছে।
বিদ্যা নিকেতন প্রতিষ্ঠালগ্নে শিশু নিকেতন ছিল। ১৯৯১ সালে ইহা বিদ্যা নিকেতন নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমান জনতা আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের লগোতে প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ১৯৯১ সালকেই খোদাই করা হয়েছে।
পুরো নামকরণটির পিছনেও রয়েছে ইতিহাস, যেমন আছে অনেক মানুষের ঘাম ঝরানো গল্প। আমরা যখন ছোট তখন দেখেছি টিনের ঘর হিসেবে এর অস্তিত্ব কিন্তু ততোধিক জনপ্রিয় এক স্কুল যা কেজি স্কুল নামে সমধিক পরিচিত।
ছাত্ররা এলাকা ঘুরে ঘুরে বাঁশ কালেকশন করেছে। শিক্ষকরা অবৈতনিকভাবে রাতদিন পরিশ্রম করছেন স্কুলের সুনাম বৃদ্ধিতে শক্তপোক্ত ভিত্তি গড়ে পুরো গফরগাঁওয়ে মাধ্যমিকের এক স্বনামধন্য বিদ্যাপিঠ হিসেবে দাঁড়াতে। পেরেছিলেনও বটে। চল্লিশ গজের ভিতর আরও দুটি প্রতিষ্ঠান(আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, আলীমুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) থাকা সত্ত্বেও ইহা
এমপিওভুক্ত হয়। শুরুতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হলেও পরবর্তীতে দশমশ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয় কিন্তু ততোদিনে এর সুনাম ছড়িয়ে গেছে। তবে রয়ে গেছে দু:খ। এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা লাগলতো অন্য বিদ্যালয়ের নামে। সব অর্জন সফলতায় অভিভাবক শিক্ষার্থীরা আনন্দিত হলেও খাতা কলমে নাম হতো অন্য প্রতিষ্ঠানের। অতি দ্রুতই সে দু:খ লাঘব করে নিজেদের পরিচয়ে পরিচিত হয়ে নিজেদের সুনাম ছড়িয়ে পরে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের এক আলোকিত প্রতিষ্ঠানরূপে কিন্তু তখনও এর কাঠামো টিনের ঘর। নেই খেলার মাঠ। অথচ খেলাধুলায় এবং বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের সাপুড়ের নৃত্য, কৃষকের পালা নৃত্য, ঘটকের অভিনয় ইত্যাদিতে এ স্কুলের ডাক-নাম ছিলো ব্যাপক এখনো চারপাশে তা গুঞ্জন করে।
আমি (এসএসসি ব্যাচ-১২) ২০০৭ সালে এ স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হিসেবে ভর্তি হই। আমরা যখন জুনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষা দেই অষ্টম শ্রেণিতে তিনজন টেলেন্টপুলে বৃত্তিসহ আরও কয়েকজন সাধারণ বৃত্তি লাভ করে যা গফরগাঁওয়ের দক্ষিণাঞ্চলে ঈর্ষান্বীয় সফলতা অর্জন করে। আমাদের এ ব্যাচটায় যখন ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তখন সমগ্র কেন্দ্র থেকে ৫(পাঁচ) জন জিপিএ ৫ লাভ করে যার মধ্যে ৩(তিন) জন এ প্রতিষ্ঠানের। পাশের আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানে তখন জিপিও ৫ ছিল শূন্য। ২ টি জিপিএ ৫ ছিলো সুদূর বারইহাটি, পাগলা থেকে। প্রতি বছর এরকমভাবে শিক্ষার মানে, ফলাফলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্সপ্রাপ্তি বা ভর্তির হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম অক্ষুণ্ণ রয়েছে আজ অব্ধি।
নতুন কেউ প্রধান শিক্ষক হয়ে নিয়োগ পাবেন, আসবেন, পুরনো এই ইতিহাস কি জানবেন?
স্মৃতির পাতায় অশ্রুতে লেখা যে কবিতা তা কী সবার বোধগম্য হয়, হবে? চশমার আড়ালে যে মেঘেদের বাস কজনের দৃষ্টিতে তা পড়ে?
ঝড় আসার আগেই লুকাতে চায় তোমাদের থেকে!
তা না হোক ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হোক সকলের হৃদয়।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved