ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬:
বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে। টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করে আসছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে “বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতার বাস্তবায়নের অবস্থা: গবেষণার ফলাফল প্রকাশ এবং প্রেস ব্রিফিং” শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৈয়দ মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএসটিআই-এর মেট্রোলজি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ।
টিসিআরসির প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোঃ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিসিআরসির প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ জুলহাস আহমেদ।
প্রবন্ধে জানানো হয়, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধনী ২০১৩)’ অনুযায়ী ৮টি বিভাগীয় শহরে বাজারজাত তামাকজাত দ্রব্যের মোড়ক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, অধিকাংশ পণ্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা নির্ধারিত আকারে নেই, অনেক ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা এমন স্থানে দেওয়া হয়েছে যা সহজে চোখে পড়ে না। কোথাও ঝাপসা ও অস্পষ্ট ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কোথাও একই সতর্কচিত্র বারবার ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
গবেষণায় আরও উঠে আসে, অনেক তামাকজাত পণ্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ নেই এবং বেশিরভাগ তামাক কোম্পানিই এখনো নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। এসব কারণে আইন বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। গবেষকরা এসব অনিয়ম বন্ধে দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং চালুর ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ সৈয়দ মাহফুজুল হক বলেন, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। অনিয়মগুলো দ্রুত বন্ধ না হলে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি আরও বাড়বে। নতুন অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যান্য বক্তারাও বলেন, স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং চালু হলে একদিকে যেমন সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে, অন্যদিকে কর আদায় ও বাজার মনিটরিং সহজ হবে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনকারী তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
মুক্ত আলোচনায় চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved