২৪ জানুয়ারি-২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন চরম উত্তেজনার ঘনঘটা। যেকোনো মূহুর্তে ইরানে হামলা চালানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে পেন্টাগন ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানি সীমান্তের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে। পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার আর রণতরীর মহড়ায় বিশ্ব পরিস্থিতি এখন এক ভয়ংকর বিপদজনক (যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণোন্মুখ) অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
মার্কিন সামরিক মুভমেন্ট এখন প্রকাশ্য- সাগরজুড়ে রণতরীর বহর:- সামরিক সূত্রমতে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মার্কিন রণতরীর বিশাল বহর আরব সাগরের দিকে এগিয়ে আসছে। একইসাথে ভেনেজুয়েলায় মোতায়েনকৃত রণতরীও এখন ইরানের দিকে যাত্রাপথে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে একটি বিশাল ‘আর্মাডা’ বা নৌ-বহর হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে প্রায় ২৫,০০০ মার্কিন সেনা সরাসরি অপারেশনে অংশ নিতে প্রস্তুত। কাতারে নতুন করে আরও ৭,৫০০ সেনা মোতায়েন করার মাধ্যমে পেন্টাগন তাদের স্থল ও বিমান শক্তির জানান দিচ্ছে।
ইরানের ৯০০ মিসাইল এবং ‘রেড বাটন’ কৌশল:- যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সজ্জার জবাবে ইরানও বসে নেই। তেহরান দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সামরিক ঘাঁটি এখন তাদের ৯০০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের নিশানায় রয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তাদের আঙ্গুল এখন ‘লক করা বোতামে’। মার্কিন বাহিনী প্রথম আঘাত হানার চেষ্টা করলেই একযোগে সবগুলো ঘাঁটিতে হামলা চালানো হবে।
ইরানি নীতিনির্ধারকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হামলা হলে ইসরায়েলকেও এর চরম মূল্য দিতে হবে। ইসরায়েল অভিমুখে হামলার একটি পূর্ণাঙ্গ ‘রোড ম্যাপ’ তারা ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করেছে এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে চীন-রাশিয়ার কৌশলগত অবস্থান:- এই সংকটে ইরানকে একা ছাড়ছে না বিশ্বশক্তির অন্যতম দুই স্তম্ভ চীন ও রাশিয়া। গত ৬০ ঘণ্টায় চীন থেকে সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই অন্তত ৭২টি কার্গো বিমান ইরানে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ কাতারের জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, ইরান-রাশিয়া সামরিক চুক্তির অধীনে এটি একটি বড় কৌশল, যা যুদ্ধের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
সীমান্তে নেটওয়ার্ক জ্যামিং ও যুদ্ধের মহড়া:- গতরাত থেকে ইরানের অভ্যন্তরে এবং সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ড্রোন, আধুনিক ট্যাংক এবং অত্যাধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েনের পাশাপাশি সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নেটওয়ার্ক জ্যামিং মেশিন বসানো হয়েছে। পুরো ইরান জুড়ে এখন এক ধরনের ‘যুদ্ধকালীন সতর্কতা’ জারি রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের শঙ্কা:- বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, যদি সত্যি সত্যিই যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং সার্বিক নিরাপত্তায়। আমেরিকা যেখানে গণতন্ত্র ও বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের কথা বলছে, ইরান সেখানে এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষণ:- পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে আগামী কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন হবে বিশ্ব ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত সংকটময়। আলোচনার টেবিল নাকি যুদ্ধের ময়দান-কোনটি জয়ী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved