ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উত্তরবঙ্গের মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী। উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছে করে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। দশ দল ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে। এই উত্তরবঙ্গে কৃষির বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারী বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা আমীর ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হযরত মাওলানার আন্দুল হাকিম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ও ঠাকুরগাও -৩ আসনের প্রার্থী মাস্টার মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়- ১ আসনের ১০ দলীয় জোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি মনোনিত প্রার্থী মো. সারজিস আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, হিন্দু নেতা যতিশ বাবু, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি এনসিপির জেলা সভাপতি মো. রফিকুল আলম, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা সাঈদ আহাম্মদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
মাওলানা মীর রুহুল আমিনের অর্থসহ কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ জনসভার পূর্বে জামায়াত আমীর দিনাজপুর এবং পঞ্চগড়ে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমীর বলেন, উত্তরবঙ্গকে বলা হয় বাংলাদেশের শস্যভান্ডার। তিনভাগের একভাগ খাদ্য এখানে উৎপাদন হয়। এখানকার মানুষ গরিব হতে পারে না। এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে রাখা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবেই। এখানে নেতা এসেছে নেতা গেছে। নেতাদের নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু মানুষের যা হওয়ার, তা হয়নি।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দু:শাসন না থাকলে উত্তরবঙ্গ কৃষির রাজধানীতে পরিণত হতো। সহযোগিতা করা হলে এই অঞ্চলে তিনগুণ বেশি ফসল উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, ভাবছেন, একগুণেরই দাম পাই না। তিনগুণ করলে কি হবে। আমরা বলবো আপনাদের ফসল সংরক্ষণ করা হবে। তিনি গ্যারান্টি দেন দেশ ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালিত হলে মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে কামড়াকামড়ি করতে পারবে না। আপনারা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
তিনি আরও বলেন, দশ দল নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের সব জেলায় বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। তাদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে যেতে হবে না। আমরা বঞ্চিতদের দুয়ারে সবার আগে উন্নয়ন দেবো।
উত্তরবঙ্গের মানুষকে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেককে আপনারা ভোট দিয়েছেন। আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। এবার মুক্তি পাগল ১০ দলের জোটকে ভোট দিন। আমরা মিলেমিশে বাংলাদেশ গড়বো। আপনারা এবার এমন মানুষকে ভোট দেন যারা দুর্নীতি করবে না। দুর্নীতিকে আশ্রয় দিবেন না। সকল মানুষের জন্য ন্যায়বিচার হবে সবার জন্য। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। এসময় তিনি ৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি বদলাতে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে পাশ করানোর আহ্বান জানান।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দশ দল নির্বাচিত হলে জনগণের বিজয় হবে। আমরা একক দলের শাসন চাই না। জনগণের শাসন চাই। যারা আধিপত্যবাদকে মেনে নিবে না। এমন সব দল নিয়ে আমরা কাজ করবো। সেই বিজয়ের জন্য মানুষ অপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে আপনারা ঐসব মানুষদের নির্বাচিত করেন, যাতে আর কোন আলেম ওলামাকে স্বৈরাশাসনের কাছে নির্যাতিত হতে হবে না। নির্বাচিত হলে গোটা উত্তরবঙ্গকে বাংলাদেশের কৃষির রাজধানী বানাবো। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত করবো। আমরা আর বেকারত্বেও কষ্ট দেখতে চাই না। উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেকটি ঘরকে ইন্ডাষ্ট্রিতে পরিণত করবো। চীনা জাপানির পেরেছে। আমরাও পারবো। আমরা হাতগুলো গড়ে দিবো। দক্ষ জনশক্তিকে ট্রেইনিং দিবো। ১০ হাজার টাকা করে কোষাগার থেকে বের করবো। এরা বেকার ভাতা অপমানের। আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিবো। জাতিকে আমরা বেকার বানাতে চাই না।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে তিনটি নির্বাচনী আসন আছে। সবাইকে কাজ করতে হবে। মা বোনদের জাগিয়ে তুলতে হবে। আমরা যুবকদের আকাংখার বাংলাদেশ গড়বো। তাদের কর্মস্থল নির্মাণ করবো। সবাই মিলে মিলেমিশে দেশ গড়বো। দেশের মানুষ এগুলোই দেখতে চায়। আর কিছুই করতে হবে না। আজকে আমি যাদের পরিচয় করাবো তারা আপনাদের সম্পদের পাহারাদার হবে। চোর হবে না।
জামায়াতের আমীর সবশেষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মাওলানার আন্দুল হাকিম ও মাস্টার মিজানুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, যুবকরা কাজ শেষ হয়নি। অবিচার দুর্নীতি চাঁদাবাজি বিদায় দিয়ে দেশকে ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক, আধিপত্যমুক্ত না করা পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমরা থামবো না। নতুন কোন দুর্বৃত্ত নতুন পোশাক নিয়ে আমাদের সামনে যেন না আসতে পারে সেজন্য মহান প্রভূর সাহায্য কামনা করেন। জামায়াতের আমীর আরও বলেন, দশ দল ক্ষমতায় এলে থেকে দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি বন্ধ করে ন্যায় ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও ঠাঁকুরগায়ের সন্তান সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিবে। আমরা দেখেছি বাংলাদেশ যখন উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করে তখন শকুনরা বাধা হয়ে দাঁড়া।
কতিপয় চাঁদাবাজদের হাতে উন্নয়ন কুক্ষিগত হয়। আগামিতে সকল ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাবোই ইনশাআল্লাহ্।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved