কুমিল্লা শহরে চুলায় আগুন জ্বলে না। হাঁড়িতে ভাত ওঠে না। তবু মাস শেষে ঠিকই আসে গ্যাস বিল। হাজারো পরিবারের জীবনে এটি এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
নাজমা বেগম কুমিল্লার এক গার্মেন্টস শ্রমিক। তিন সন্তানের জননী। প্রতিদিন সকালে রান্নাঘরে ঢুকে একই হতাশা দেখেন। চুলায় গ্যাস নেই। না খেয়েই ছুটতে হয় কাজে। দিন শেষে খাবার জোটে না তার কিংবা তার সন্তানদের।
এই চিত্র আর ব্যতিক্রম নয়। কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, চর্থা মুরাদপুর, হালুয়াপাড়া, আশ্রাফপুর, বাখরাবাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চুলায় গ্যাস থাকে না। অনেক পরিবার না খেয়ে থাকে। কেউ বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনছে। এতে বাড়ছে ব্যয়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাস্থ্য।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সিলিন্ডার গ্যাসে ঝুঁকছে। এতে মাসিক খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। তবু বিকল্প নেই।
তোফায়েল হোসেন কাউসার নামে এক বাসিন্দা বলেন, গ্যাস পাই না, কিন্তু বিল দিচ্ছি। এটা ন্যায্য নয়। দুঃখ প্রকাশে সমস্যার সমাধান হয় না। বিল মওকুফ হবে কি না, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ সংযোগ, পুরনো পাইপলাইন, তদারকির অভাব এবং বাণিজ্যিক লাইনের অতিরিক্ত ব্যবহার সংকট বাড়িয়েছে। একাধিকবার গ্যাস বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। তবে কার্যকর সমাধান দেখা যায় না।
প্রশ্ন উঠেছে, এই দুঃখ প্রকাশে কি মানুষের ক্ষুধা মেটে। এই দুর্ভোগের দায় কে নেবে। আর কতদিন গ্যাসহীন চুলার সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে কুমিল্লার হাজারো পরিবার।
সাধারণ মানুষের একটাই দাবি। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিল আদায় বন্ধ হোক। একই সঙ্গে অবিলম্বে কার্যকর সমাধান নেওয়া হোক।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved