
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের আইপিও’র অর্থ ব্যবহার নিয়ে তদন্ত করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) এবং জিরো-কুপন বন্ড ইস্যু করার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৩২ কোটি টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার করেছে কি না, তা তদন্ত করতে একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কোম্পানিটি আইপিও থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করেছে, সেই টাকা আইন অনুযায়ী খরচ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিএসইসি ২৭ নভেম্বর গঠিত তিন সদস্যের একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন কে। কমিটির অন্য সদস্যদ্যের মধ্যে রয়েছে মো. শাহনৌস ও সহকারী পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানির একটি সূত্র জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত একটি চিঠি তারা পেয়েছে। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী পরিদর্শন দলটি সশারীরে পরিদর্শন করবেন এবং সরঞ্জাম পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করেছে বলেও জানান।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে একটি পরিদর্শন দল গঠন করেছিল কমিশন। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে আগের দলটি এগোতে পারেনি। নতুন কমিশন এখন পরিদর্শন আবার শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
২০২০ সালের নভেম্বরে, বিএসইসি কোম্পানিটিকে তার ব্যবসা সম্প্রসারণ, সরঞ্জাম ক্রয় এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমতি দেয়। দরপত্রের পর মীর আক্তারের শেয়ারের কাট-অফ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬০ টাকা। আইপিও তহবিলের অর্থ ১৮ মাসের মধ্যে ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ে অর্থ খরচ করতে পারেনি।গত বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তার আইপিও আয়ের ব্যবহার শেষ করেছে।
২০২২ সালের মার্চ মাসে কোম্পানিটিকে ঋণ পরিশোধ এবং মূলধনের ভিত্তি বাড়ানোর জন্য ২৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার জিরো কুপন বন্ড ইস্যু করার অনুমতি দেয়। এর ইস্যু মূল্য ছিল ২০৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, কোম্পানির একত্রিত রাজস্ব আগের বছরের একই সময়ে ৭৪.৮৩ কোটি টাকা থেকে ৫০ শতাংশ কমে ৩৭.৬৭ কোটি টাকা হয়েছে।
একই সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী একত্রিত নিট মুনাফা এক বছর আগের ৩.২১ কোটি টাকা থেকে ১২ শতাংশ কমে ২.৮২ কোটি টাকা হয়েছে। এর শেয়ার প্রতি একত্রীকৃত আয় দাঁড়িয়েছে ০.২৩ টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদের মূল্য ছিল ৫০.৩২ টাকা।
২০২৪ কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছিল। একই বছরে রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২৬৮.৭৪ কোটি টাকা, যেখানে কর-পরবর্তী লাভের পরিমাণ ছিল ৩০.০৪ কোটি টাকা।
২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ছিলো ৪৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিদের হাতে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিলো ৪৭ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার ।
২০২২-২৩ অর্থবছরের কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের বর্তমানে ৯ হাজার ২৬৮ কোটি টাকার ৩৩টি প্রকল্প রয়েছে।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2026 | All Rights Reserved